ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে ভারতসহ ১০ দেশ

রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে ভারতসহ ১০টি দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে এগিয়েছে। তবে প্রস্তাবিত শুল্ক এখনো কার্যকর হয়নি; বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পরই এর পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।


প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার নেতৃত্ব, জ্বালানি খাত এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে সহায়তাকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি সংশোধনীতে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় থাকা ১০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দেশগুলো হলো—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।


এর আগে বিলটি মার্কিন সিনেটে শক্তিশালী সমর্থন নিয়ে পাস হয়েছিল। এরপর প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি নিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, বিলটি রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপরও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার কাঠামো তৈরি করবে।


বিলটির অন্যতম লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া রাজস্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সহায়তা করছে। তাই রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর মাধ্যমে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।


ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।


তবে প্রস্তাবিত আইনের শুল্কসংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যের উদ্বেগ, বিলটি প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা দিতে পারে এবং সেই ক্ষমতার ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে বিলের চূড়ান্ত রূপ নিয়ে আরও আলোচনা ও সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।


প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে এটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হতে পারে। এরপর আইনে পরিণত হলে কোন দেশ ও কোন পরিস্থিতিতে শুল্ক কার্যকর হবে, সেটি নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই বর্তমানে ভারতসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে—এমনটি বলা ঠিক হবে না; এটি এখনো প্রস্তাবিত আইনের অংশ।

ads
ads
ads

Our Facebook Page